টিপস

মেথি খাওয়ার উপকারিতা 2022। মেথির পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার নিয়ম

আজকের পোষ্টে আমরা আলোচনা করব মেথি খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম গুলো সম্পর্কে। প্রিয় ভিউয়ার্স স্বাস্থ্য বিষয়ক এই পোস্টে আপনাদের স্বাগতম। আপনারা ইতিমধ্যেই আজকের আলোচনার বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চলেছি আপনি যদি এই বিষয়ে জানার জন্য আগ্রহী হয়ে থাকেন। তাহলে পুরো পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন আশা করি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ অবশ্যই এই ধরনের তথ্য গুলি মনোযোগ সহকারে পড়েন।

মেথির উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই শুনে থাকি কিন্তু সঠিক উপকারিতা গুলো সম্পর্কে আমরা জানি না। সহজলভ্য একটি উপকরণ হচ্ছে মেথি। খুব অল্প অর্থের বিনিময়ে এটি ক্রয় করতে পারেন কিন্তু এর উপকারিতা রয়েছে ব্যাপক। আপনি সত্যিই অবাক হবেন এই মেথির উপকারিতা সম্পর্কে জানলে। তাই মেথির উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পুরো পোস্টটির সাথে থাকুন।

মেথির পুষ্টিগুণ

আজকে যেহেতু আমরা এই মেয়েটির সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করতে এসেছি সেতু মেথির গুনাগুন সম্পর্কে জানা আমাদের উচিত। তাই আমরা জানবো ১চামুচ মেথির মধ্যে কি কি গুনাগুন রয়েছে এ বিষয়ে । চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এক্সামস মেয়েটির মধ্যে কি কি গুনাগুন রয়েছে।

এক চামচ মেথির বীজে পুষ্টিগুণ রয়েছে-
১. প্রোটিনঃ ৩ গ্রাম
২. ফ্যাটঃ ১ গ্রাম
৩. ফাইবারঃ ৩ গ্রাম
৪. ক্যালরিঃ ৩৫ ক্যালরি
৫. ম্যাগনেসিয়ামঃ ৫ শতাংশ
৬. লোহাঃ ২০ শতাংশ
৭. ম্যাঙ্গানিজঃ ৭ শতাংশ

মেথির উপকারিতা

এখানে আমরা আলোচনা করব মেথির উপকারিতা গুলো সম্পর্কে। সুতরাং যারা মেথির উপকারিতা গুলো সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে তারা অবশ্যই এখান থেকে জেনে নেবেন। মেথির উপকারিতা গুলো আমরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব আপনাদের মাঝে। মেথির উপকারিতা অনেকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য 14 টি উপকারিতা সম্পর্কে আমরা আপনাদের সামনে আলোচনা করব। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এটি আমাদের জন্যে কত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার । এর পরেও আমরা অনেকেই এই বিষয়ে জানিনা। তাই যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত এর সুবিধা গুলো ভূগ করবেন । নিচে মেথির উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

1 ডায়বেটিস জন্য দৈনিক ৫০ গ্রাম মেথি দুই বার গ্রহণ করলে তা প্রস্রাবে চিনির পরিমাণ কমিয়ে দেয়।

২. কলেস্টেরল কমায়

মেথি শুধুই যে রক্তের মধ্যে উপস্থিত কলেস্টেরল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে তা কিন্তু নয়। আপনার শরীরকেও আস্তে আস্তে কলেস্টেরলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
মেথি শরীরের লিপো বা ব্যাড প্রোটিন কমায়।

এছাড়াও লিভার থেকে সৃষ্ট তরলের শোষণের হার কমিয়ে দিতে সাহায্য করে। চর্বিযুক্ত খাদ্য থেকে নির্গত হওয়া ট্রিগ্লাইসারাইড(Triglycerides)-এর শোষণের মাত্রা কমিয়ে দিতে সক্ষম মেথি।

৩. বাতের ব্যথা কমায়

বাতের ব্যথা প্রায় চল্লিশ বছরের উপরে মানুষেরই সমস্যা। Indian Journal of Medical Research এর প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মেথির ইস্ট্রোজেনের উপরে প্রভাব এতই বেশি যে বর্তমানে ডাক্তারেরা মেথির ব্যবহার ”Estrogen replac Galactomannan” সাথে তুলনা করছেন। মেথি বাতের তীব্র ব্যথা-বেদনাকে কমাতে সাহায্য করে।

৪. হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষা

হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় মেথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মেথি শরীরে থেকে দ্রুত এসিডের পরিমাণ কমে দেয়। এসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে করতে মেথি কার্যকরী ভেষজ।

মেথির বিচিঁ সারারাত জলে বা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটেই খেয়ে নিলে হার্টের ব্যথা বা বুক জ্বালা ও হার্টের বিভিন্ন সমস্যাগুলো ঔষুধ না খেয়েই ঘরোয়া পদ্ধতিতে কমে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
৫. মাসিকের ব্যথা থেকে মুক্তি

পিরিয়ড(Period)- এর ব্যথা প্রায় মেয়েদের জীবনে বিভীষিকার মতনই এবং মাসের শেষ সপ্তাহগুলো মেজাজ বা মাথা খারাপ থাকা ও স্কুল-কলেজ মিস করার মতো ঘটনা প্রায়ই সব মেয়েদের জীবনে ঘটেছে। চিন্তা কোনো কারণ নেই- রান্নাঘরে মিলবে এর সুফল!

মাসিকের প্রথম ৩ দিন (১৭০০-২৭০০) মিলিগ্রাম মেথির গুড়া গ্রহণ করা ও পরবর্তী দিনগুলোয় ৯০০ মিলিগ্রাম করে দৈনিক ৩ বার মেথির গুড়া খেলে মহিলাদের মাসিকের ব্যথা কমে যায়।

ইউটেরাসে মৃত টিস্যুর সংখ্যা বাড়লে পিরিয়ড- এর ব্যথা শুরু হয়ে যায়। মাসের ওই দিনগুলোয় গরম মেথি দিয়ে চা(tea) বানানো হতে পারে, ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য।

৬. হজম ক্ষমতা বাড়ে

মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয় এবং শরীরের সুগার শোষণ করার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। মেথির বিচিঁ ভেজানো পানি সকালে ঘুম থেকে উঠেই খেলে হজমের সমস্যা আস্তে আস্তে দূর হয়ে যায়।

৭. ক্যান্সার

বর্তমান সময়ে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মেথির ব্যবহার করার ফলে ক্যান্সার রোগ হবার আশঙ্কা কমে যায় । কর্কটরোগ থেকে মুক্তি পেতে ডাক্তাররা রান্নায় মেথি ব্যবহার করতে বলছেন।আবার মহিলাদের জন্য মেথি রান্নায় অবশ্যই মিশানো উচিত।

 

ফলে মেথিতে উপস্থিত ট্রাইগ্লিসেরাইড এস্ট্রোজেন গ্রহণকারী মডিউলেটার এর মতো কাজ করে এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার(Breast cancer) সৃষ্টিকারী কোষগুলোকে উদ্দীপিত করতে করতে একসময় পুরোপুরি ধ্বংস করে।

৮. বুকের দুধ উৎপাদন

মেথিতে উপস্থিত ডায়োসজেনিন দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।  সেই সাথে ভিটামিন, মিনারেল থাকায় মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তাই, বাচ্চা জন্ম দেয়ার কিছু পরে মেথির ক্যাপসুল বা মেথির চা খেলে স্তনপান করানো নারীদের দুধের উৎপাদন বেড়ে যায় এবং বাচ্চা জন্ম দেওয়ার এক বা দুই দিন পরে মেথি খেলে দুধের পরিমাণ বেড়ে যায়। কিন্তু সব গবেষণায় এ রকমটা দেখা যায় না।

৯. ওজন কমায়

ওজন কমাতে মেথির উপকারিতা অপরিসীম। মেথি দানা বা বিচিঁ হলো লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, ভিটামিন-বিC6, প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজের এক উৎস। মেথির অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট (anti-oxident) এবং Anti-inflammatory বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।

মেথি বীজে এক ফাইবার থাকে যা ‘Galactomannan’ নামে সুপরিচিত এবং সহজে পানিতে গলে যায়। এই ফাইবারটি ওজন কমাতে সহযোগিতা করে। পাশাপাশি শরীরের মেটাবলিসম বৃদ্ধি করে, যার ফলে মেদ ঝরে যাওয়া এবং অন্য এডিপোশ টিস্যুর কার্যক্ষমতা কমে যায়।

কিছু কিছু গবেষণায় দেখা যায় ৫০০ মিলিগ্রাম মেথি ৮ সপ্তাহ(week) ধরে খেলে শরীরে চর্বির পরিমাণ একেবারেই কমে যায়।

২০১৫ সালের এক গবেষণায়, নয়জন Over weight কোরিয়ান মহিলা launch এর আগে শিম চা, মেথি চা, এবং প্লাসিবো চা পান করেছিল। পরে দেখা যায়, মেথি চা যারা পান করেছিলেন তারা কম ক্ষুধার্ত ছিল এবং পূর্ণ অনুভূব করেছিলেন। সুতরাং, ওজন কমানোর জন্য ডায়েট চার্টে মেথি রাখা।

১০. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

মেথির দানায় উচ্চ পটাসিয়াম এবং ফাইবার সামগ্রী উপস্থিতির কারণে রক্তচাপ কমে যায়।

এক চামচ মেথি দানা জলের মধ্যে ২ মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিন, পরে ছেঁকে নিয়ে বীজগুলিকে একটি ব্লেন্ডারে দিয়ে বা পিষে এটিকে পেস্ট বানান এবং মেথির পেষ্টটাকে দিনে দুই বার খালি পেটে খেয়ে নিন। ২-৩ মাস অনুসরণ করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা সম্ভব।

১১. কিডনির কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়

”Phytotherapy Research”– গবেষণা অনুযায়ী, ক্যালসিয়াম অক্সালেট জাতীয় কিডনির পাথর প্রতিরোধ করতে মেথিই সক্ষম। গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে, মেথি খাওয়া প্রাণীগুলো কিডনির মধ্যে কম ক্যালসিফিকেশন হয়েছে।

১২. লিভার ক্ষমতা বাড়ায়

”Biology and toxicology” গবেষণায় S. Cavierson বলেছেন, মেথি অ্যালকোহলযুক্ত ক্ষতির বিরুদ্ধে লিভারকে পুরোপুরি রক্ষা করে। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল আসক্ত মানুষরা চর্বিযুক্ত লিভার ও ফাইব্রোসিস থাকে যা কোলাজেন সংশ্লেষণের মাধ্যমে একেবারে নির্মূল করা যায়।

গবেষণায় দেখা যায় যে, মেথি খাওয়ার ফলে লিভারে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট(Anti-oxidant) এনজাইম গুলির ক্রিয়া-কলাপ বাড়ায়।

১৩. পাচন তন্ত্র

বর্তমানে অতিরিক্ত ভেজাল খাবার খাওয়ার কারণে আমাদের পাচক সিস্টেম ক্রমাগতভাবে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি পেটের বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তাই, পাচন তন্ত্র ভালো রাখতে হলে দৈনিক মেথি খাবেন।

১৪. হৃদয় ভালো রাখে

মেথি খাওয়ার ফলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। তাই জ্ঞানী ব্যক্তি ও ডাক্তারা মেথি খাওয়ার পরামর্শ দেন। নিয়মিত মেথি সেবন করার ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভবনা কমে যায়।

ত্বকের জন্য মেথির উপকারিতা

ত্বকের জন্য মেথির উপকারিতা অনেক। কিন্তু এ বিষয়ে আমরা অনেকেই জানিনা। তাই এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন মেথির উপকারিতা গুলো সম্পর্কে ত্বকের ক্ষেত্রে কি কি উপকার পাবেন মেথির মাধ্যমে। এসকল বিষয় বিস্তারিত আলোচনা হল।

মেথি ব্রণ নির্মূল করে:

মেথির বীজে উপস্থিত আছে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ, যা আপনার ব্রণ(acne) নির্মূল করতে সাহায্য করে। শুধুমাএ মেথির দানা আর গরম পানি ব্যবহার করে ব্রণ মুক্ত ত্বক পাওয়া যায়।

কিভাবে কাজ করে?

মেথির দানার ভিতরে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ থাকে, এটি ত্বকের গভীরে মধ্যে যায়। দীর্ঘদিন মেথি (methi) ব্যবহার করলে ব্রণের দাগের হাত থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যায়।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

১. পরিমাণমতো জল গরম করে তাতে মেথির    দানাগুলোকে ফেলে দিন।
২. মেথি গরম পানিতে ১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিন।
৩. ঠাণ্ডা হওয়ার পরেই মেথির দানাগুলোর ভেজানো জল তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

 

Back to top button
Close